Blog
জ্ঞানচক্ষু – আশাপূর্ণা দেবী (দশম শ্রেণির পাঠ্য – প্রথম অধ্যায়)- উৎস ও পটভূমি, সারাংশ, নামকরণের যুক্তি, অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (MCQ & VSAQ)- Gyanchakshu by Ashapurna Devi
- October 15, 2025
- Posted by: Team Halder e-Academy
- Category: WB Board Notes WB Board Tuitions WBBSE Class-10
জ্ঞানচক্ষু – আশাপূর্ণা দেবী (দশম শ্রেণির পাঠ্য – প্রথম অধ্যায়)- উৎস ও পটভূমি, সারাংশ, নামকরণের যুক্তি, অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (MCQ & VSAQ)- Gyanchakshu by Ashapurna Devi
জ্ঞানচক্ষু – আশাপূর্ণা দেবী (দশম শ্রেণির পাঠ্য – প্রথম অধ্যায়)- উৎস ও পটভূমি, সারাংশ, নামকরণের যুক্তি, অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (MCQ & VSAQ)- Gyanchakshu by Ashapurna Devi
উৎস ও পটভূমি
‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পটি বিশিষ্ট বাঙালি সাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘কুমকুম’ গল্পসংকলন থেকে সংগৃহীত। আশাপূর্ণা দেবী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের এক বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক, যিনি সমাজবাস্তবতা, নারীজীবনের সংগ্রাম, শিশুমনের মনস্তত্ত্ব ও আত্মমর্যাদার বোধকে তাঁর গল্পে অত্যন্ত সাবলীলভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। এই গল্পে তিনি এক শিশুর সাহিত্যজ্ঞান, কৌতূহল ও আত্মসম্মানের অনুভূতিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বাস্তবধর্মীভাবে তুলে ধরেছেন।
সারাংশ
‘জ্ঞানচক্ষু’ বিশিষ্ট বাঙালি সাহিত্যিকা আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘কুমকুম’ গল্পসংকলনের অন্তর্ভুক্ত একটি গল্প। এই গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র তপন, এক কিশোর, যে ছোটবেলা থেকেই মনে করত—লেখকরা যেন এক রহস্যময় মানুষ, তারা সাধারণ মানুষের মতো চলাফেরা করেন না। কিন্তু তার এই ভ্রান্ত ধারণা ভেঙে যায়, যখন সে জানতে পারে তার সদ্যবিবাহিতা ছোটোমাসির স্বামী একজন লেখক।
তপন অবাক হয়ে দেখে, লেখক হওয়া সত্ত্বেও ছোটোমেসো একেবারে সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করেন—খান, ঘুমান, স্নান করেন, এমনকি দাড়িও কামান। মামাবাড়িতে এসে তপনও লেখালেখির অনুপ্রেরণা পায় এবং নিজে একটি গল্প লিখে ফেলে। ছোটোমাসি গল্পটি ছোটোমেসোর হাতে তুলে দেন, আর তিনি সেটি ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় ছাপানোর আশ্বাস দেন।
তপন উৎসাহে দিন গুনতে থাকে, কিন্তু অনেকদিনেও গল্পটি প্রকাশ পায় না। অবশেষে একদিন ছোটোমাসি ও ছোটোমেসো পত্রিকা হাতে বাড়িতে আসেন—তপনের গল্পটি সত্যিই ছাপা হয়েছে। কিন্তু গল্পটি পড়ে তপনের আনন্দ ম্লান হয়ে যায়, কারণ সে বুঝতে পারে—ছোটোমেসো “সংশোধনের” নামে গোটা গল্পটাই পাল্টে দিয়েছেন। নিজের লেখা বিকৃত হয়ে যাওয়ায় তপন গভীরভাবে ব্যথিত হয়।
এই ঘটনার মধ্য দিয়েই তপনের মনে স্বাধীন সৃষ্টিশক্তির মূল্য ও নিজের লেখার প্রতি আত্মসম্মান জন্ম নেয়। সে স্থির করে যে, ভবিষ্যতে নিজের লেখা নিজেই প্রকাশের জন্য পাঠাবে। এই আত্মজাগরণই তপনের “জ্ঞানচক্ষু”-এর উন্মেষের প্রতীক।
নামকরণের যুক্তি
গল্পটির নাম ‘জ্ঞানচক্ষু’ হওয়া যথার্থ কারণ, এখানে জ্ঞানচক্ষু বলতে বোঝানো হয়েছে মনের চোখ, অর্থাৎ অন্তর্দৃষ্টি। শিশুটি চোখ দিয়ে যতটা দেখে, তার থেকেও বেশি বোঝে মনের দৃষ্টি দিয়ে। সে সমাজ, সাহিত্য ও আত্মমর্যাদার প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করে। এই গভীর অনুভব ও সচেতনতার কারণেই গল্পটির নামকরণ ‘জ্ঞানচক্ষু’ সার্থক।
নামকরণের তাৎপর্য
গল্পটির নাম “জ্ঞানচক্ষু” (অন্তর্দৃষ্টি বা মনের চোখ) অত্যন্ত তাৎপর্যময় এবং গল্পের মূল ভাবের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। আশাপূর্ণা দেবী এই গল্পে একজন কিশোর, তপনের মানসিক বিকাশ, সাহিত্য সম্পর্কে তার উপলব্ধি এবং আত্মসম্মানের বোধের ধাপে ধাপে জাগরণের কাহিনি তুলে ধরেছেন। গল্পের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে তপনের চিন্তাভাবনা এবং দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনই আসলে তার “জ্ঞানচক্ষু”র ক্রমশ উন্মোচনের প্রক্রিয়া।
গল্পের শুরুতে তপন লেখক সম্পর্কে খুব একপেশে ধারণা পোষণ করত। তার মনে হতো লেখকরা সাধারণ মানুষের থেকে অনেক আলাদা এবং তাদের জীবনও সাধারণ মানুষের জীবনের মতো নয়। এই ধারণা তার অজ্ঞতা এবং অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতা থেকে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পরে সে বুঝতে শুরু করে যে লেখকও সমাজেরই একজন মানুষ এবং তারাও সাধারণ মানুষের মতোই সুখ-দুঃখ, আশা-আকাঙ্কক্ষা, আনন্দ-বেদনা অনুভব করেন। এই উপলব্ধি তপনের চিন্তার জগতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করে।
কিন্তু প্রকৃত অন্তর্দৃষ্টি বা “জ্ঞানচক্ষু”র জাগরণ ঘটে তখন, যখন তপনের নিজের লেখা গল্প প্রকাশিত হলেও সেটিকে সে নিজের বলে মনে করতে পারে না। কারণ লেখার মূল চিন্তা, সৃষ্টিশীলতা ও আত্মপরিচয় তার সঙ্গে জড়িত থাকা সত্ত্বেও তার নামটি সেখানে অনুপস্থিত। এই মুহূর্তেই সে গভীরভাবে বুঝতে শেখে যে লেখার প্রকৃত অধিকার কেবল প্রকাশের মাধ্যমে আসে না, আসে লেখকের আত্মপরিচয় ও আত্মমর্যাদার স্বীকৃতির মাধ্যমে।
এই অভিজ্ঞতা তপনের চিন্তায় এক নতুন আলো জ্বালে, তাকে আরও পরিণত ও সচেতন করে তোলে। তার অন্তর্দৃষ্টি জাগ্রত হয় এবং সে বুঝতে শেখে নিজের সত্তা, নিজের সৃষ্টির মর্যাদা ও তার মূল্য কী। এই অভ্যন্তরীণ জাগরণই “জ্ঞানচক্ষু” — যা শুধু চোখ দিয়ে দেখা নয়, বরং মনের চোখ দিয়ে সত্যকে উপলব্ধি করার ক্ষমতা।
এই কারণেই গল্পটির নাম “জ্ঞানচক্ষু” যথার্থ ও ব্যঞ্জনাধর্মী। এটি শুধু তপনের ব্যক্তিগত বিকাশ নয়, বরং মানুষের মানসিক বিবর্তনের প্রতীক — অজ্ঞতা থেকে জ্ঞানের দিকে, অন্ধ অনুসরণ থেকে আত্মসচেতনতার দিকে উত্তরণের চিহ্ন। তাই গল্পের নাম গল্পের মূল ভাব, উদ্দেশ্য এবং বার্তাকে সম্পূর্ণরূপে ধারণ করে এবং সেটিকেই সুন্দরভাবে প্রতিফলিত করে।
জ্ঞানচক্ষু গল্পের প্রশ্ন উত্তর (Gyanchakshu by Ashapurna Devi) অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (MCQ & VSAQ)
১. ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পটি কোন গল্পসংকলন থেকে নেওয়া হয়েছে?
উত্তর: ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পটি আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘কুমকুম’ নামক গল্পসংকলন থেকে নেওয়া হয়েছে।
২. তপন লেখকদের সম্পর্কে কী ধারণা পোষণ করত?
উত্তর: গল্পের শুরুতে তপন মনে করত লেখকরা সাধারণ মানুষের মতো নন। তারা যেন এক বিশেষ জগতের মানুষ, যেন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা অন্য গ্রহের প্রাণী। তার ধারণা ছিল, লেখকদের জীবন সাধারণ মানুষের জীবনের মতো নয় এবং তারা আলাদা এক উচ্চতর জগতে বাস করেন।
৩. তপনের ছোটোমেসো কী কাজ করতেন?
উত্তর: তপনের ছোটোমেসো একজন অধ্যাপক ও লেখক ছিলেন। তিনি নিয়মিত সাহিত্যচর্চা করতেন এবং পত্রিকায় লেখাও প্রকাশ করতেন।
৪. তপন কখন গল্প লিখতে শুরু করে?
উত্তর: তপন প্রথম গল্প লেখে মামাবাড়িতে ছোটোমাসির বিয়ের সময়। সেই সময়ে তার সাহিত্য সম্পর্কে আগ্রহ জাগে এবং নিজের কল্পনাশক্তি দিয়ে সে গল্প লেখার চেষ্টা করে।
৫. কোন পত্রিকায় তপনের গল্প প্রকাশিত হয়?
উত্তর: তপনের লেখা গল্প ‘সন্ধ্যাতারা’ নামের একটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
৬. তপন নিজের গল্প পড়ে হতাশ কেন হয়?
উত্তর: তপন নিজের গল্প পড়ে হতাশ হয় কারণ তার ছোটোমেসো সংশোধনের নামে গল্পটির প্রায় সমস্তটাই পরিবর্তন করে দিয়েছিলেন। ফলে গল্পটি আর তপনের নিজের সৃষ্টি বলে মনে হয়নি। এই কারণে সে গভীরভাবে ব্যথিত ও নিরাশ হয়।
৭. গল্পের শেষের দিকে তপন কী সংকল্প করল?
উত্তর: গল্পের শেষের দিকে তপন দৃঢ় সংকল্প করে যে ভবিষ্যতে সে নিজেই তার লেখা গল্প পত্রিকায় পাঠাবে, যাতে অন্য কেউ তার লেখা পরিবর্তন করতে না পারে। এর মাধ্যমে তার মধ্যে আত্মমর্যাদা ও নিজের সৃষ্টির প্রতি সচেতনতা জন্ম নেয়।
৮. ‘জ্ঞানচক্ষু’ নামকরণের কারণ কী?
উত্তর: গল্পে ‘জ্ঞানচক্ষু’ বলতে বোঝানো হয়েছে অন্তর্দৃষ্টি বা মনের চোখ, যা দিয়ে সত্যিকার উপলব্ধি অর্জন করা যায়। তপন শুরুতে লেখক সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করলেও ধীরে ধীরে সে বুঝতে শেখে লেখকের প্রকৃত মূল্য এবং নিজের সৃষ্টির মর্যাদা। নিজের গল্প বদলে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তাকে আত্মসম্মানের বোধ শেখায়। এই উপলব্ধিই তার ‘জ্ঞানচক্ষু’ খুলে দেয়। তাই গল্পের নাম ‘জ্ঞানচক্ষু’ যথার্থ, অর্থবহ এবং ব্যঞ্জনাধর্মী।








ধন্যাবাদ
কীছু ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত উওরভিত্তিক প্রশ্ন উওর দেবেন প্লিজ
Please enroll in our online course. pdf notes will be uploaded at online course. Thank you.
Ⓝⓘⓒⓔ ⓣⓞ ⓢⓔⓔ ⓨⓞⓤ